
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান
মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার মন্ত্রিপরিষদ। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তারা।
এরপর প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করার কথা রয়েছে। এ সময় তারা উভয় নেতার মাজার জিয়ারতও করবেন।
মন্ত্রিপরিষদের আগমনকে কেন্দ্র করে স্মৃতিসৌধ এলাকায় তিন স্তরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন সমন্বিতভাবে। মহাসড়কে বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। ডগ স্কোয়াড ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের মহড়া চলছে নিয়মিত। পুরো স্মৃতিসৌধ এলাকা আনা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায়।
এর আগে মঙ্গলবার শপথ গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের একাদশ প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন তারেক রহমান। দেশ পরিচালনার প্রথম দিন বুধবার সচিবালয়ে প্রথম অফিস করবেন তিনি। সেখানে মধ্যাহ্নভোজ ও বিকেলে মন্ত্রিসভার বৈঠকে অংশ নেয়ারও কথা রয়েছে। বিকেল ৪টায় সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তিনি। এজন্য সচিবালয়ে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচনের গেজেটের পরই তুমুল ব্যস্ততা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে। নতুন ভবনের ছয়টি লিফটের সবকটিই ছিল ব্যস্ত। কর্মকর্তারা এক ফ্লোর থেকে আরেক ফ্লোরে উঠছেন, নামছেন। সবার হাতেই ফাইল। রেওয়াজ ভেঙে এবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় হয়েছে মন্ত্রিসভার শপথ। আর সেই শপথ অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধান করেছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের কাছ থেকে শপথ নেন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান
ঢাকা: দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায়ের সূচনা হলো তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে। ১৭ বছর নির্বাসিত জীবন পার করে দেশে ফেরার মাত্র ১ মাস ২৫ দিনের মাথায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অভিষিক্ত হয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এক নতুন মোড়।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তারেক রহমান। ঢাকা-১৭ আসনে তিনি পান ৭২ হাজার ৬৯৯ ভোট এবং বগুড়া-৬ আসনে পান ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট। তার নেতৃত্বে বিএনপি জাতীয় সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) কয়েক ধাপে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। বেলা পৌনে ১১টায় সংসদ ভবনের শপথ গ্রহণ কক্ষে প্রথমে শপথ নেন সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির এমপিরা। তাদের শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তবে তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।
পরবর্তীতে একই স্থানে শপথ নেন জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য এবং স্বতন্ত্র সদস্যরা। ১১ দলীয় জোটের এমপিরা সংসদ সদস্যের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ গ্রহণ করেন। তাদের শপথ বাক্যও পাঠ করান সিইসি।
বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান। পরে তার নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরাও শপথ নেন। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি। এর মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে, বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধি, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, বিচারপতি, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিরা।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ২৯৭টি আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনার কারণে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
ঘোষিত ফলাফলে ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি জয় পেয়েছে ২০৯টিতে। স্থগিত থাকা দুটি আসনেও দলটির প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। বিএনপির শরিকরা তিনটি আসনে বিজয়ী হয়েছেন।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়লাভ করেছে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের অন্যান্য শরিকরা ৯টি আসনে জয় পেয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ৬টি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পেয়েছে ২টি আসন।
এছাড়া ইসলামী আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন ও খেলাফত মজলিস একটি করে আসনে জয়ী হয়েছে। বাকি সাতটি আসনে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
নতুন সরকার ও সংসদের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় দেশজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন প্রত্যাশা ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, গণতান্ত্রিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে নতুন সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
এনডি/এম





