
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের ক্রমবর্ধমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌযান চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তার জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম টানা তিন দিন ধরে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় বাজারে অস্থিরতা আরও বেড়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৭০ ডলার বা ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৭৯ ডলার ৪৪ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। এর আগে সোমবার দাম বেড়ে ৮২ ডলার ৩৭ সেন্টে পৌঁছায়, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ। দিন শেষে ব্রেন্টের দাম ৬ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি দামে স্থির হয়।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দামও বেড়েছে। মঙ্গলবার ডব্লিউটিআইয়ের দাম ১ ডলার ১৭ সেন্ট বা ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭২ ডলার ৪০ সেন্টে পৌঁছায়। আগের সেশনে এই তেলের দাম ২০২৫ সালের জুনের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠলেও শেষ পর্যন্ত ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধিতে স্থিত হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা বাজারে বড় ধরনের সরবরাহ সংকটের শঙ্কা তৈরি করেছে। বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়।
বাজার বিশ্লেষক টনি সিকামোর রয়টার্সকে বলেন, দ্রুত পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা এবং ইরানের পক্ষ থেকে আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করার প্রবণতা তেলের দামে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। তার মতে, সংঘাত যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, জ্বালানি বাজারে ঝুঁকি এবং মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা ততই বাড়বে।






